সিম কার্ড কি এবং সিম কার্ড কিভাবে কাজ করে দেখে নিন

বর্তমান যুগ মোবাইল ফোনের যুগ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ সময় ,

আমরা স্মার্টফোনে ব্যবহার করে থাকি। 

সিম কার্ড কি এবং সিম কার্ড কিভাবে কাজ করে ?

 

আমাদের অতি প্রয়োজনীয় কিছু কাজ যেমন ফোন কল করা, কাউকে টেক্সট পাঠানো, ইন্টারনেট সার্ফ করা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট উপভোগ করা সহ বিভিন্ন কাজে আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করি। 

 

তবে মোবাইল ফোনের উৎপত্তি হয়েছিল মূলত দূরবর্তী কোনো মানুষের সাথে যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে।

 

মোবাইল ফোন আবিষ্কারের পর ফোন কল করার মাধ্যমে দূরবর্তী কোনো মানুষের সাথে যোগাযোগ করা সহজতর হয় ওঠে। তবে যে বিষয়টি ছাড়া একটি স্মার্টফোন এই যোগাযোগের কাজটি করতে পারে না তা হল সিম কার্ড। 

সিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানকারী কোম্পানির সেবা গ্রহণ করতে পারি। যেমন ফোন কল, মেসেজিং, ইন্টার্নেট ব্রাউজিং ইত্যাদি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা একটি সিম কার্ড কিভাবে কাজ করে। 

 

তাই আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন সিম কার্ড কি এবং একটি সিম কার্ড কিভাবে কাজ করে। 

 

 

 

SIM Card আপনারাসকলেই জানেনআপনাদের সকলেরমোবাইল ফোনেএকটি করেসিম কার্ডবা দুটিকরে সিমকার্ড হগলেমোবাইল ফোনেইথাকে  আর এই সিম কার্ডএর পূর্ণরূপহল   Subscriber Identity Module  

আমাদের অনেকেরকাছেই কিন্তুদেখা যায়যে তিনথেকে চারটিবা পাঁচছয়টা পর্যন্তসিমকার্ড থাকে খুবইছোট একটাজিনিস কিন্তুএর মাধ্যমেআপনারা মোবাইলফোনে অন্যকোনো ব্যক্তিরসাথে কথাবলতে পারেনএরপর এসএমএসকরতে পারেনতারপরে ইন্টারনেটচালাতে পারেনঅনেক কিছুইকরতে  পারেন। 

 

সিম কার্ড কি? 

Read More: জিপি ইন্টারনেট অফার নেওয়ার নিয়ম ২০২২

SIM এর পূর্ণরূপ Subscriber Identity Module (সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল/সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিফিকেশন মডিউল) সিম কার্ড মূলত একটি এক্সটার্নাল চিপ যা ব্যবহার করার জন্য মোবাইল ফোনের মধ্যে প্রবেশ করাতে হয়। 

আমরা সিম কার্ডের মধ্যে মেটালের যে অংশ দেখতে পাই তার মধ্যে থাকে চিপসেট। এই চিপ এর মধ্যে থাকে প্রসেসর, Ram, স্টোরেজ। বাইরের প্লাস্টিকের অংশ দেওয়া হয় সিম কার্ড কে বিভিন্ন ডিভাইসের জন্য উপযুক্তভাবে ফিট করার উদ্দেশ্যে। 

Read More: ভালো মোবাইল ক্যামেরা ফোন কেনার আগে যে সকল বিষয় জানা উচিত 

সিম কার্ডের বিভিন্ন অংশ 

সিম  কার্ডগুলোতে সাধারণত ভাবে একটা নিজস্ব নাম্বার থাকে আর যেটাকে মূলত আইএমএসআই(IMSI)  নাম্বার নামে সকলের কাছে পরিচিত । আইএমএসআই(IMSI)  এরপূর্ণরূপ হল  ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডিন্টিটি। 

আর তার সাথে একটা  প্রমানীকরন অক্ষর  অথবা বলা যায়  অথেনটিকেশন কি থাকে আর যেটাকে মূলত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোদিয়ে থাকে মোবাইল ফোনের সঙ্গে। 

আইএমএসআই নাম্বারে ১৫ টি ডিজিট থাকে (+৮৮০১৮××××××××) প্রথমে 3-digit অথবা  সংখ্যায় থাকে কোন দেশের নিজস্ব কোড ,তিনটি ডিজিটের  পরে একটা অথবা  দুইটিডিজিট হয়ে সেবা প্রদানকারী  প্রতিষ্ঠান এর  নেটওয়ার্ক কোড    সবশেষের সংখ্যাগুলো  হল ব্যবহৃত সিমের আইডিন্টিফিকেশন নাম্বার 

 

প্রত্যেকটা দেশের নিজস্ব কোন আলাদা হওয়ার কারণে একেকটা দেশের   সিমকার্ড অন্য দেশে  ব্যবহার যদি করতে চান তাহলে অবশ্যই  এক্ষেত্রে আপনাদেরকে রোমিং এর মাধ্যমে ব্যবহার  করালাগবে 

 

সিম কার্ডের তথ্য এবং মেমোরি  

 

একটা সিম কার্ডে সাধারণ ভাবে দেখা যায় যে,   কিলোবাইট  হতে শুরু করে  ২৫৬ কিলোবাইট ডেটা  সংরক্ষণ করে রাখা যায় আর প্রায় ২৫০ টির মতো নাম  অথবা নাম্বার সংগ্রহ করে রাখা যায়।
সিম কার্ডের মেমোরিতে আইসিসিআইডি নাম্বার,আইএমএসআই নাম্বার,অথেনটিকেশন কি,এলএআই,ইমার্জেন্সি নাম্বার,এসএমএস,কন্টাক  নাম্বার গুলো   থাকেআর তার ভিতরে  এলএআই  হচ্ছে লোকাল এরিয়া আইডেন্টিটি  আর যেটাকে ফোনের অবস্থান ট্র্যাক ঘরে থাকে।
আর যখন 1 মিটার থেকে অন্য নেটওয়ার্কে  যাওয়া হয় তখন সেই সময় নতুন এলএআই ভ্যালু চেঞ্জ  হয়ে যায় এবং  সিমে সংরক্ষণ হয়ে ওভারলোড হয়ে যেতে থাকে।

LAI কি?

LAI  হচ্ছে মূলত (Local Area Identity) লোকাল এরিয়া আইডেন্টি। যেটা আপনাদের হাতে মোবাইল ফোনে থাকা লোকেশন ট্র্যাক করে থাকে   যে সময় আপনারা লোকেশন পরিবর্তন  করে থাকেন অর্থাৎ এক নেটওয়ার্ক  হয়তো অন্য কোন নেটওয়ার্কের যান তখন আপনাদের নতুন একটা LAI কোডটি আপনার সিমে  সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। তথ্যসূত্র নোটখাতা

 

 

রোমিং সিস্টেম কী? 

প্রতিটি সিমকার্ড নির্দিষ্ট  ভাবে একটাএলাকাতে কাজকরে যেমন মনেকরেন যেবাংলাদেশের সিমকার্ড  শুধুমাত্র বাংলাদেশেরভিতরে কাজকরবে এরবাহিরে সাধারণতকিন্তু দেখাযায় যেনেটওয়ার্ক পায়নানেটওয়ার্কে সমস্যাহয়ে থাকে। 

যদি বাংলাদেশথেকে  সিমকার্ড নিয়েবাইরে যাওয়াহয় তাহলেওকিন্তু আপনারাসিম কার্ডপরিবর্তন নাকরে  কলকরতে পারবেনতবে সেক্ষেত্রে আপনাদেরকেরোমিংপদ্ধতি ব্যবহারকরতে হবে।আর এক্ষেত্রেআপনাদেরকে হোমনেটওয়ার্কের  সঙ্গেভ্রমনকৃত দেশগুলোরনেটওয়ার্কের  সঙ্গেযোগাযোগ  থাকা লাগবে। 

👆

উদাহরণ হিসেবেবলা যায়যে, বাংলাদেশথেকে কেউযদি আমেরিকাতেগিয়ে রোমিংপদ্ধতি চালুকরে  তখনযদি বাংলাদেশথেকে কেউযদি সিমের ভেতরেকল দেয়  তাহলে বাংলাদেশেরসেবা প্রদানকারীসিম কোম্পানীটিতার গ্রাহকদেরলোকেশন অনুযায়ী  আমেরিকা এরসেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান  এর নিকটকল প্রেরন  করে থাকেএবং সেটাশেষে গ্রাহকদের কাছে  চলেযায়। 

আর এইক্ষেত্রে  আমেরিকায় বাংলাদেশ থেকেযে  সিমকার্ডের কলগেলো  তারজন্য কিন্তু  আমেরিকার সেবাদানকারীপ্রতিষ্ঠানটি কলএর বিবরনীরাখবে যে বিলহবে সেটাকে তারাবাংলাদেশি সিমপ্রতিষ্ঠানের  কাছেপাঠিয়ে দিবে

 

আর এতেকরে কিন্তুগ্রাহকেরা বাংলাদেশএর সিমএর যেবিল হবেসেটা তাদেরকেপরিশোধ করালাগবে।  আরএর পরেদেখা যাবেকিন্তু সাধারণতভাবে ফোনকল করারথেকে একটুবেশি পরিমাণেকথা তুলনামূলকভাবেএকটু বেশিপরিমাণে খরচহবে বলতো৫৫০, তথ্যসূত্র – অর্ডিনারি আইটি

 

 

সিম কার্ড এর আকার 

 

১৯৯১ সালের দিকে সর্বপ্রথমব্যবহৃত হয় পূর্ণ  আকার এর  সিম কার্ড।  তারপরে  একে একে  করে আসে  মিনি সিম কার্ড। এরপরে  মাইক্রো সিম কার্ড। আর বর্তমান সময়ে এখন কিন্তু সকলের  মোবাইল ফোনেই   ন্যানো সিম কার্ড  ব্যবহার করা হয়ে থাকে ভবিষ্যতে  ধারণাকরা হচ্ছে যে  সিম কার্ড ব্যবহার  করা হতে পারে  

সিম কার্ড এর প্রকারভেদ 

নেটওয়ার্ক কনফিগারেশন বা সাপোর্টের দিক থেকে সিম কার্ড কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ 

·        2G

·        3G

·        4G

·        5G

সময় যত এগোচ্ছে সিম কার্ড এর আকার ততই ছোট হচ্ছে। কারণ আমাদের মোবাইল ফোন আধুনিক হচ্ছে এবং এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সেনসর, আইসি যুক্ত হচ্ছে। এতে ফোনের ভিতরে জায়গা পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে বড় আকৃতির সিম কার্ড ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। সিম কার্ডের আকার আকৃতির দিক থেকে একে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ

·        Sim

·        Mini Sim

·        Micro sim

·        Nano sim

·        Esim

আরো পডুনঃ এয়ারটেল মিনিট অফার ২০২২

সিম মূলত একটি প্রোগ্রামেবল চিপসেট। যার মধ্যে যেকোনো কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার সুযোগ থাকে। যেমন গ্রামিনফোন, রবি, বাংলালিন্ক সহ যেকোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন। 

এজন্য আপনাকে ফোনের মধ্যে আলাদাভাবে কোনো সিমকার্ড প্রবেশ করানোর প্রয়োজন পরবে না।

আরো পডুন: ই সিম কি, বাংলাদেশে ই সিমের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

 সিম কার্ড কিভাবে কাজ করে ? 

একটি সিম কার্ডের মধ্যে মূলত একটি চিপ থাকে। যেখানে থাকে প্রসেসর, ্যাম এবং স্টোরেজ। আপনি যখন সিম কার্ডটিকে ফোনের মধ্যে প্রবেশ করান তখন সিম কার্ডের চিপটি চালু হয়।

স্টোরেজ এর মধ্যে থাকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য। স্টোরেজকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রসেসর এবং ্যাম। স্টোরেজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ধরনের তথ্য সঞ্চিত থাকে। 

এর মধ্যে কিছু তথ্য পরিবর্তন করা যায় আবার কিছু তথ্য পার্মানেন্টলি সেভ করা থাকে। 

পার্মানেন্ট তথ্য বা ডাটাগুলো মধ্যে রয়েছে 

 

১।নেটওয়ার্ক প্রোভাইডারের দেওয়া ইউজার 

২।আইডি

 

আরো পডুন: রবি ইন্টারনেট অফার কোড ২০২২

৩।নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার এর নাম

৪।ইউজার অথোরাইজেশন ডাটা

৫।ফোন নাম্বার

৬।লোকেশন ইনফর্মেশন

৭।পার্সোনাল সিকিউরিটি কি 

সিম কার্ডের স্টোরেজের মধ্যে এই ইনফর্মেশন গুলো কখনো রিমুভ করা যাবে না। তবে এমন কিছু টাইপের ডাটা থাকে যা আপনি চাইলে সংরক্ষণ বা রিমুভ করতে পারবেন। যেমন কন্টাক্ট নাম্বার। আমার চাইলে আমাদের প্রয়োজনীয় কন্টাক্ট নাম্বার গুলো নাম সহকারে সিম কার্ডের মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখতে পারি।

 

তবে সিম কার্ডের মধ্যে স্টোরেজের ক্যাপাসিটি খুবই কম থাকে। ফলে আমরা সীমিত পরিমাণে কন্টাক্ট নাম্বার সেভ করতে পারি। 

 

সিম কার্ডের মধ্যে থাকা পার্মানেন্ট ডাটা গুলো আমাদেরকে কাঙ্খিত প্রোভাইডারের নেটওয়ার্ক সেবা ব্যবহার করার সুযোগ দেয়। 

এই ছিল সিম কার্ড সম্পর্কিত আজকের ইনফরমেটিভ আর্টিকেল। আশা করি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা সিমকার্ড কি এবং সিম কার্ড কিভাবে কাজ করে এগুলো জানতে পেরেছেন। পুরো আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *