বাংলাদেশের সবথেকে লাভজনক ৫টি ছোট ব্যবসার আইডিয়া জেনে নিন

আজকের আর্টিকেলে আপনারা বাংলাদেশের সব থেকে

লাভজনক ৫টি ছোট ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন ,

 

বাংলাদেশের সবথেকে লাভজনক ৫০টি ছোট ব্যবসার আইডিয়া

 

আজকে আমাদের আর্টিকেলটি যারা পড়ছেন তাদের ভেতরে অনেকে হয়তো বা রয়েছেন যারা  বাংলাদেশ থেকে ছোট ব্যবসার আইডিয়া খুজতেছেন কিভাবে লাভজনক এবং বেশি মুনাফা অর্জন করা যায় কিন্তু ব্যবসা বেশি বড় পরিসরে শুরু করতে চাচ্ছেন না ছোট আকারে শুরু করে বেশি মুনাফা অর্জন করতে চাইছেন তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি  

আজকের আর্টিকেলে বাংলাদেশের সবথেকে জনপ্রিয় ৫টি লাভজনক ছোট ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে আলোচনা করব  

নিজের ব্যবসা বলতে  আলাদাএকটা অনুভূতিঅর্জন এবং উদ্দীপনা রয়েছে অন্য মানুষের অধীনে কাজ করার ক্ষেত্রে আপনারা কতটুকু পরিমাণে কষ্ট করেন বা শ্রম মেধা খাটান আপনারা তার থেকে কিন্তু আপনাদের যদি নিজেদের ব্যবসায়ী তাহলে কিন্তু সেই ব্যবসাতে আপনারা কয়েক গুণ বেশি কষ্ট এবং শ্রম   দেওয়ার জন্য আপনাদের কোন সমস্যা হয় না। 

{tocify} $title={Table of Contents}

 

কারণ নিজের ব্যবসার ভেতরে আলাদা একটা  উদ্দীপনা কাজ করে যেটা কিন্তু আপনি অন্যের অধীনে কাজ করলে কখনো অনুভব করতে পারবেন না। 

০১. ফ্যাশন হাউস ব্যবসা  (Fashion House) 

 

ফ্যাশন হাউজবুটিক হাউস , কাপড়ের শোরুম , রেডিমেড গার্মেন্টস আপনারা যে নামেই ডেকে থাকুন না কেন , একটু সদিচ্ছা পরিশ্রম করার মন মানসিকতা  যদি ইচ্ছা আপনাদের মাঝে থাকে তাহলে কিন্তু আপনারা চাইলে নিজেরাই একটা ফ্যাশন হাউস দিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন  

প্রথমেই  আপনারা জেনে নিন যে আপনারা যদি ফ্যাশন হাউস দিতে চান তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনাদের কয়েকটি লাইসেন্স করতে হবে   

·        আপনাদের প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে

·        টিআইএনসনদ 

·        ভ্যাট সনদ

·        যদি নিজেদের  ব্রান্ড  বের করতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে তার ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন  

ফ্যাশন হাউস এর ব্যবসা  অনেক রকম ভাবে করতে পারবেন।  যেমনমনে করেন , আপনারা শোরুম আকারে দোকান দিয়ে করতে পারেন অথবা আপনারা চাইলে গোডাউনের মাধ্যমে করতে পারেন  

আপনাদের যদি শোরুম আকারে দোকান দেওয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনাদেরকে উপরে দেওয়া সবগুলো লাইসেন্স আপনাদেরকে করে নিতে হবে। আর আপনারা যদি গোডাউনে দিতে চান তাহলে কিন্তু আপনাদেরকে এসবের কোন কিছু দরকার পড়বে না কিন্তু অনেক সময় ট্রেড লাইসেন্স এর দরকার হয়ে থাকে   

আমি সবার প্রথমে আপনাদেরকে গোডাউনের মাধ্যমে এই ব্যবসাটি শুরু করার জন্য বলব কারণ আপনি আপনার বাসার ভেতরে যে কোন একটি রুম  গোডাউন  হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন চাইলে, কিংবা আপনারা চাইলে ছোটখাটো একটা দোকান অল্প টাকার ভিতরে ভাড়া নিতে পারেন  

এখনহচ্ছেপোশাকসরবরাহকরার  কাজ।  

একটি ফ্যাশন হাউজ এর জন্য একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের দরকার এবং এর সাথে একজন প্যাটার্ন মাস্টার কাম স্যাম্পল ম্যান অত্যাবশ্যক যেহেতু আপনারা এই ব্যবসায়ে নতুন এবং  প্রথম ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন তাই আমি আপনাদেরকে পরামর্শ দেবে যে আপনারা প্রথম অবস্থায় নিজেরা শুরু করে দেখুন , মানে প্রথমে আপনারা নিজেরা চেষ্টা করে দেখুন  

টাকা আয় করা শুরু করে দেওয়ার পরে কিন্তু আপনাদের লোক বল জোগাড় করা খুব একটা কষ্ট হবেনা আপনাদের জন্য তখন আপনারা চাইলে একজন কেন যতদিন ইচ্ছা আপনার  ততজন  ফ্যাশন ডিজাইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। 

আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে আমি যে উপরে বললাম , নিজেই চেষ্টা করে দেখুন এই কথাটার মানে কি ? দেখুন আপনারা চাইলেই কিন্তু ফ্যাশন ডিজাইনারদের মত আপনারা ডিজাইন করতে পারবেন না কখনোই তাহলে কি আপনাদের ব্যবসা বন্ধ থাকবে ? না সেটা কখনোই  থাকবেনা  

এই ক্ষেত্রে আপনারা  দুইটিপদ্ধতি অবলম্বন করে আপনাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন প্রথমটা হল আপনারা গার্মেন্টস  শিপমেন্ট ক্যানসেল স্টকলটের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে সলিড কালার টি শার্ট করে করে তাতে  আপনারা আপনাদের ইচ্ছা মত প্রিন্ট করে নিতে পারেন

 

আপনারা শুধু মাত্র 75 টাকা দিয়ে সলিড কালার টি শার্ট  পেয়েযেতে পারেন ইন্টারনেট থেকে রিচার্জ করে আপনারা ভালো ভালো ডিজাইন খুঁজে বের করে তারপরে আপনারা এইসব টি শার্ট প্রিন্ট করে নিতে পারেন একটা সলিড কালার টি শার্ট এর থেকে একটি প্রিন্টেড টিশার্ট  অনেকআকর্ষণীয় এবং বিক্রি করার সময় অনেক ভালো  দামপাওয়া যায়  

এই সমস্ত  টিশার্ট গুলো আপনারা স্থানীয় অথবা দেশি বড় বড় মার্কেট গুলোতে সরবরাহ করতে পারেন অথবা আপনারা চাইলে  স্টক  হিসেবে দেশের বাহিরে পাঠাতে পারেন  

এখন কথা হলো এখানে আপনারা যদি আপনাদের তৈরি করা টিশার্ট মার্কেটের যেসকল দোকানদারেরা রয়েছে তারা যদি পছন্দ না করে তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনারা কি করবেন ? এক্ষেত্রে আপনাদের কে প্রথমে স্যাম্পেল বানাতে হবে এক্ষেত্রে ডিজাইন  প্রতি স্যাম্পল এর ক্ষেত্রে খরচ  পড়তেপারে এক হাজার টাকার মতো  

আপনারা সেই স্যাম্পল দেখিয়ে মার্কেট যাচাই করে নিতে পারবেন অথবা আপনারা চাইলে বিদেশি বায়ারদের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারেন , পরবর্তীতে যদি  বায়ার  পছন্দকরে আপনাদের স্যাম্পেল তাহলে এক হাজার বা তার থেকেও বেশি টি শার্ট অর্ডার দিয়ে দিলেন অথবা এর থেকে কম  

এইভাবে আপনারা বিক্রি করতে করতে একটা সময়ে গিয়ে আপনারা নিজেদের ব্যান্ডের নামে  শোরুম চালু করে ফেলতে পারেন  

ফ্যাশনহাউজের  শোরুম  যদি দেন তাহলে  আপনারা সুন্দর থ্রিপিস, শাড়ি, চুড়ি, গয়না, শোপিস, জিন্সপ্যান্ট, টিশার্ট  হতে শুরু করে হাল আমলের ফ্যাশন স্কার্ফ, মানিব্যাগ, ব্যাগ এই সমস্ত জিনিস গুলো সহ আরো অনেক কিছু কিন্তু বিক্রি করা হয়ে থাকে। 

আপনারা চাইলে কিন্তু আপনাদের এলাকার ভিতরে দিতে পারেনি রকমের একটি শোরুম, আর যেখানে মূলত হাল ফ্যাশনের  সকল ধরনের  অনুষঙ্গই বিক্রি  করা হবে আর একই  ছাদের নিচে সব পাওয়া যাবে   তবে প্রথম অবস্থায় অন্যান্য সকল উপকরনের  থেকে শুধুমাত্র পোশাক বিক্রি করে আপনাদের জন্য ভালো হবে। 

শোরুমেরনামটাওকিন্তুআপনাদেরঅনেকটাফ্যাশনেবল  হওয়া অবশ্যই  দরকার।কেননা,দোকানের নাম অনেক সময় দেখা যায় যে  গ্রাহকদের তাদেরকে আকৃষ্ট করে থাকে। 

আর এটাকে নতুন করে বলার কিন্তু কিছুই নেই   দোকান দেওয়ার জায়গাটা ৩০০  হতে ৪০০ বর্গফুটের  ভেতরে হলে সব থেকে ভালো হয়/  আর আপনারা আপনাদের  শোরুমে এসি, ট্রায়ালের  জন্য আলাদাভাবে রুম , দেখার জন্য কয়েক জায়গায় আয়না  সুন্দর  বসার ব্যবস্থা  করে দিতে পারেন   

০২. খেলনার দোকানের ব্যবসার আইডিয়া(Open a Toy Shop)  

আপনাদের যদি ইচ্ছে থাকে তাহলে একটা বাচ্চাদের খেলনার দোকান  দিতে পারেন বাংলাদেশের ভেতরে  কিন্তু খেলনা শিল্প নেই বললেই চলে। বাচ্চাদের জন্য কিন্তু বেশিরভাগ  খেলনা আমাদের দেশ  চীন থেকে আসতেছে।  

আপনারা যদি একটা খেলা দোকানের ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনাদেরকে এই প্রোডাক্ট গুলো আনার জন্য চট্টগ্রামের বাজার থেকে সম্ভাব্য মূল্যে পাইকারি দামে কিনে আনতে পারবেন খুব সহজেই।  

আপনারা যদি খেলনার দোকানের ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে সেটা থেকে আপনাদেরকে ব্যবসা শুরু করার আগে খেলনার দোকানের মার্কেট সম্পর্কেভালোভাবে বুঝতে হবে দোকানের বাজারগুলো নিয়ে আপনাদেরকে  রিচার্জ করতে হবে    

০৩. কফিশপেরব্যবসা(Coffee Shop)  

বাংলাদেশের ভেতরে কিন্তু অনেক কম পরিমাণে রয়েছে কফি শপের ব্যবসা। কিন্তু আপনারা যদি এই ব্যবসার নিয়ম কারণ গুলো বুঝিয়ে দেন তাহলে কিন্তু আপনারা এই ব্যবসা করে বেশ ভালো পরিমাণে  লাভবান হতে পারবেন আপনারা কিন্তু চাইলে এই ব্যবসা দীর্ঘদিনের জন্য চালাতে পারবেন অর্থাৎ এই ব্যবসা কিন্তু আপনারা অনেকদিন ধরে ইচ্ছে করলে চালিয়ে দিতে পারবেন  

অবশ্য এই ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে একটা পারফেক্ট স্থান নির্ধারণ করে নিতে হবে অর্থাৎ যেখানে মানুষের চলাফেরা বেশি মানুষের  আসাযাওয়া বেশি লোক সমাগম বেশি এরকম এর একটি জায়গা আপনাকে বেছে নিতে হবে তাহলে আপনাদের ব্যবসা ভালোভাবে চলবে বলে আশা করা যায় 

  

০৪. আইসক্রিম দোকানের ব্যবসা(Ice-Cream Shop Business)  

এটা একটা  সৃজন  ভিত্তিক ব্যবসা বলা যায় আপনারা এই ব্যবসা করতে পারবেন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এরপরের যেখানে লোকসমাগম বেশি মানুষ আসাযাওয়া বেশি করে এরকম এর জায়গায় এই সমস্ত জায়গায় আপনারা আপনাদের দোকান টা ভালো ভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন তারপরে  আপনারাআপনাদের কাজ করা শুরু করতে পারেন তাদের নিশ্চিন্তে বলা যায় যে আপনারা যদি গরম মৌসুমি ব্যবসা করেন তাহলে প্রচুর পরিমাণে মনে হয় অর্জন করতে পারবেন এই ব্যবসা করে   

০৫. ফাস্টফুড দোকানের ব্যবসা ( Fast Food Shop Business) 

বর্তমানেএই ব্যবসা সবচেয়ে লাভজনক একটি ব্যবসার ভিতরে রয়েছেছোট ব্যবসা কিন্তু এটা  অনেক লাভজনক ব্যবসা বাঙালিরা  ভোজন রসিকবাঙালিরা খেতে ভালোবাসে, আর তাই আপনারা যদি  খাবারের ব্যবসা শুরু করতে চান , তাহলে কিন্তু  ফাস্টফুডের ব্যবসা শুরু করতে পারেন অনেকেই খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে  চায় , খেতে  অনেক পছন্দ করে 

আর এই ব্যবসা শুরু করতে আপনাদের বেশি পরিমাণে মূলধন এর দরকার হবে না আপনারা  প্রথমদিকে অল্প পরিসরে শুরু করতে পারেন আপনারা এই ব্যবসায় এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকার ভিতরে শুরু করতে পারবেন প্রথম অবস্থায় 

আর তারপরে আপনারা চাইলে আস্তে আস্তে করে আপনাদের দোকান থেকে বাড়াতে পারেন বা অন্য কোন জায়গায় আপনাদের দোকান টা নিয়ে সেখানে বড় করে শুরু করতে পারেন ,  

আর এটা সম্পূর্ণ আপনাদের উপর নির্ভর করে আপনারা চাইলে যে জায়গায় আছি সে জায়গায় যদি বড় করে আপনাদের দোকান টা দিতে পারেন পরবর্তীতে তা হলে সেখানেও দিতে পারেন বা অন্য কোন জায়গায়   দিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *